সরকারি স্টাফ কোয়াটারে থাকেন না কর্মকর্তারা
প্রকাশ : ২৮-০৯-২০১৯ ২০:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ে গণপূর্ত বিভাগের গেজেটেড ও নন গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত সরকারি স্টাফ কোয়াটার গুলোতে থাকেননা কেউ। অধিকাংশ ঘরই থাকছে ফাঁকা। রুম গুলো ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরকার এখান থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে।
সারা দেশে কর্মকর্তাদের বাসা ভাড়া এক হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ঢাকা শহরে সরকারি কোয়াটারে ভাড়া কম হওয়ায় কোয়াটারে উঠতে একেকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি রিতিমত যুদ্ধ করেন। আর মফস্বলে এর উল্টো চিত্র। এখানে সরকারি কোয়াটারে ভাড়ার চেয়ে মালিকানাধীন বাসার ভাড়া কম হওয়ায় স্টাফ কোয়াটারে থাকতে চাননা কোন কর্মকর্তাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কোয়াটার গুলোর অবস্থা তেমন ভাল নেই। তাছাড়া ভাড়া অনেক বেশি কর্তন হয়। তার চেয়ে অনেক কমে বাহিরে ভাল বাসায় থাকা যায়। সে জন্য সরকারি স্টাফ কোয়াটারে কর্মকর্তারা থাকতে রাজি হয় না।
সরকারি গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তারা সরকারি স্টাফ কোয়াটারে বসবাস করলে তাদের বেতন থেকে যে পরিমাণ টাকা কাটা হয় তার চেয়ে অনেক কমে বেশি সুবিধায় অন্যত্র বাসা ভাড়া পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। কোয়াটারে থাকলে সরকারি হিসেবে গেজেটেড কর্মকর্তার মূল বেতনের ২৫ ভাগ ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তার মূল বেতনের ১০ কর্তন হয় । আর জেলা শহরে মালিকানাধীন বাড়ি ভাড়া কম থাকায় কর্মকর্তারা দিন দিন সরকারি কোয়াটারে থাকতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান গণের জন্য বাংলো বাধ্যতা মূলক থাকলেও অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য বাংলো বরাদ্দ নাই। তাদের জন্য সরকারি স্টাফ কোয়াটার আছে। যেখানে বেশি ভাড়ার কারণে তারা থাকতে রাজি নন।
ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ১২শ ৫০ বর্গফুটের ৫টি বাসা ও ১ হাজার বর্গফুটের ১২ টি বাসার মধ্যে মধ্যে সবগুলো খালি। গেজেটেড ডরমিটরী ১২ টির মধ্যে ৯ টি খালি, নন-গেজেটেড ডরমিটরী ২০ টি মধ্যে ৯ টি খালি।
ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, সরকারি স্টাফ কোয়াটারের চেয়ে কম টাকায় বাহিরে ভাল বাসা পাওয়ায় কর্মকর্তারা থাকতে রাজি হচ্ছেন না। ভবন গুলো ফাঁকা থাকার কারণে সরকারের কোন লাভ হচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা যোগদানের প্রথমে সরকারি স্টাফ কোয়াটারের পরিবার নিয়ে উঠেন। কিন্তু কিছু দিন পরে অন্যত্র চলে যায়।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, সরকারি স্টাফদের জন্য নির্মিত কোয়াটার গুলো অনেক আগের। কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি আছে ভেবে উঠতে চান না। তাছাড়া বাহিরে অনেক কম ভাড়ায় ভাল আধুনিক বাসা পাওয়ায় সরকারি কোয়াটারে কর্মকর্তাদের তেমন আগ্রহ নেই। তবে আগের ভবন গুলো ভেঙ্গে যদি আধুনিক ভবন তৈরি হয় এবং সেই সাথে জেলা শহর হিসেবে ভাড়া কিছুটা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা তাহলে সরকারের অনেক রাজস্ব বাঁচবে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com