ঠাকুরগাঁও এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ হিমাগারে আলু সংরক্ষন করে শতশত কৃষক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে
প্রকাশ : ১২-১০-২০১৯ ১৪:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেশি দামে বিক্রির আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ কওে অসময়ে হিমাগাওে আলু অংকুরোগমন হওয়ায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শতাধিক আলু চাষী ও ব্যবসায়ী। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করায় এবং দীর্ঘদিন মেশিন বন্ধ রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদাগঞ্জে অবস্থিত এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের সাধারণ ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজার বস্তা (৮৪ কেজি প্রতি বস্তা)।কিন্তু এখানে সংরক্ষণ করা হয় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার বস্তা। সরকারি হিসেবে প্রতি বস্তা ৪শ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ ২শ ৪০ টাকায় চাষি ও ব্যবসায়িদের কাছ থেকে সংরক্ষণ করেন। ফলে ওই হিমাগার অল্প সময়ে আলুতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে সতেজ থাকার কথা থাকলেও র্দীঘদিন মেশিন বন্ধ থাকার কারণে অল্প সময়ে আলু অংকুরোদগম (গজার) হওয়ার কারণে কম দামে আলু বিক্রি করে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়িরা। কেননা শুধু চাষি নয় স্বপ্ন ভঙ্গ অনেক ব্যবসায়িদেরও কারণ হিমাগারে আলু শুধু চাষি নয় ব্যবসায়িরাও কিনে সংরক্ষণ করে থাকেন। চাষিদের অভিযোগ শিকার করে হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছেন বেশি পরিমাণ নয় বরং বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে এমনটা ঘটেছে।
ঠাকুরগাঁও হিমাগার এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, জেলায় ১৭ টি হিমাগার আছে। আরও কয়েকটি নতুন নির্মাণ হচ্ছে। তাই সংরক্ষণের সময় অনেক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যে যত কত দাম নির্ধারণ করে তার হিমাগার তত দ্রুত ভর্তি হয়। শুনেছি এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কিছু আলু আগেই গজিয়ে গেছে। অন্য সব হিমাগারের আলু ভাল আছে।
চাষি ও ব্যবসায়িদের দাবী হিমাগার কর্তৃপক্ষ আলু সংরক্ষণের পরে বিদ্যুৎ বিল বাঁচানোর জন্য হিমাগারের মেশিন দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে। ফলে অসময়ে আলু গজাতে শুরু করে। এতে বাজার দর থেকে প্রতি কেজি আলু ৩-৪ টাকা কম দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষীরা। বিশেষ করে বীজ আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। মাঠে বোপণের সময় আরও প্রায় দুই মাস বাকি। চাষি ও ব্যবসায়িদের স্বপ্ন ছিল বীজ হিসেবে আলু বোপন মৌসূমে অনেক ভাল দামে বিক্রি করবে। কিন্তু আলু অসময়ে হিমাগারে সংরক্ষণ অবস্থায় গজার কারণ বীজের মান নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কায় বীজের আলু খাওয়ার আলু হিসেবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক চাষি কম দামে আলু বিক্রি করেছে। অন্যরা বিক্রি করছেন।
সদর উপজেলার রহিমানপুরের মোড়ল ডোবা গ্রামের চাষি আবুল কাশেম বলেন, মাদাগঞ্জে অবস্থিত এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডে ৩শ বস্তা আলু রেখেছিলাম। ১৩ টাকা প্রতি কেজি বিক্রিও করে ছিলাম। কিন্তু ব্যবসায়িকে আলু দেওয়ার সময় গজানো আলু দেখে প্রতি কেজি ৩ টাকা কম দাম দিয়েছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।
একই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের আরেক চাষি আল মামুন বলেন, ৪শ বস্তা আলু ওই হিমাগারে রেখেছিলাম। ১৪ টাকা দরে বিক্রি করার পরে ১০ টাকা দরে টাকা নিতে বাধ্য হয়েছি। কারণ আলুর টেকা অনেক বড় বড় হয়ে গিয়েছিল। আলু গজার কারণে ওজন অনেক কম হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। হিমাগার কর্তৃপক্ষকে বলে কোন লাভ হয়নি।
একই এলাকার আরেক চাষি আব্দুল আউয়াল বলেন, ২শ ৫০ বস্তা আলু বীজ এস.বি হিমাগারে রেখেছিলাম। আলু আগেই গজার কারণে কম দামে খাওয়ার হিসেবে বিক্রি করে অনেক লোকশান হয়েছে।
এই রকম অনেক চাষি ও ব্যবসায়ি আছে যারা লাভ তো দূরের কথা ওই হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে পুঁজিও গায়েব হয়ে গেছে।
ওই হিমাগারে চাষিদের থেকে আলু কিনে অনেক ব্যবসায়ি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু ব্যবসায়িরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্টিজে নিয়মিত ব্যবসা করি। এবার লোকসান হয়েছে। পেপারে নাম আসলে মালিকতো তার প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা নাও করতে দিতে পারে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আলু হিমাগারে রাখার ফলে সতেজ থাকে। বোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে হিমাগার থেকে আলু বের করার পরে গজাতে শুরু করে। পরে জমিতে বোপণ করতে হয়। জেলায় গত মৌসূমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল।
এস.বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোরবানির সময় প্রায় ২০ দিন বিদ্যুৎ না থাকার কারণে জেনারেটর দিয়ে মেশিন সব সময় চালানো সম্ভব হয়নি।সে কারণে কিছু মানুষের আলু গজিয়ে যায়। অনেকে বিক্রি করে ফেলেছেন। কিছু চাষি ও ব্যবসায়ি তাদের আলু গজানোর বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। শুধু এস.বিতে নয় জেলার অনেক হিমাগারে এবার আলু গজায় গেছে। এ টা নতুন কোন বিষয় নয়।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, বীজ আলু আগে গজানোর কারণে মান কিছুটা নষ্ট হয়। বীজ আলু খাওয়া ঠিক নয়। কারণ বীজ আলু বিষ দিয়ে শোধনের করা থাকে। খাওয়ার আলু গজালে তেমন সমস্যা নাই।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com