weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৪% , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুহিয়ায় লকডাউনেও বন্ধ নেই কিস্তি আদায়

প্রকাশ : ২৯-০৬-২০২১ ১৫:০১

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও:সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়েও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাসের প্রভাব। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সারাদেশেই ইতোমধ্যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ।

জেলা প্রশাসনের নিষেধ থাকা স্বত্বেও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় নিয়মিত কিস্তি আদায় করছে এনজিওগুলো। ফলে কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। লকডাউনে যেখানে দু'বেলা দু'মুঠো আহার যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সেখানে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা যেন তাদের জন্য 'মরার উপর খাড়ার ঘা' এর মতো অবস্থা। তাদের দাবি আপাতত কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হোক।

রবিবার (২৮ জুন) রুহিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, টিএমএস, ব্রাক, ব্যুরো বাংলাদেশসহ কয়েকটি এনজিওর মাঠকর্মীরা কৌশলে অসহায় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় করছে। এ বিষয়ে তারা কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কাই করছেন না।

নজরুল ইসলাম নামের একজন ঋণগ্রহীতা বলেন, 'জেলায় লকডাউনের কারণে বর্তমানে তেমন কোনো কাজ কর্ম নাই। তাই আয়ের পথও বন্ধ। ফলে কিস্তি দিতে পারিনা। তারপরও সাহেব কিস্তি নিতে আসে। আমরা বেশ বিপাকে পড়ে গেলাম।'

পারুল বেগম নামের আরেক ঋণগ্রহীতা জানান, তার স্বামী একজন চা বিক্রেতা। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে বেশ কিছু দিন ধরে তার দোকান বন্ধ আছে। দোকান ছাড়া তাদের আর কোনো আয় রোজগারের উৎস নেই। বর্তমানে সন্তান নিয়ে দু'বেলা খেতেও তাদের রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যেও আজ কিস্তি নিতে এসেছে।

আজ কত টাকা কিস্তি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার কাছে এক টাকাও নাই। আমার বাড়িতে খবর দিল কিস্তি নিতে আসছে। তাই আমি বলতে আসলাম কিস্তি দিতে পারবো না। কিন্তু তারপরও তারা আমার সঞ্চয় থেকে কিস্তির টাকা কেটে নিয়েছে।'

এ বিষয়ে টিএমএস এর মাঠ কর্মী নুরে আলম বলেন, 'আমার শাখা ব্যবস্থাপক এর নির্দেশনায় আমি কিস্তি আদায় করতে এসেছি। এতে আমার কোনো অপরাধ নেই।'

টিএমএসএসের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মনোরঞ্জন রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কিস্তি আদায় বন্ধ এরকম কোনো নির্দেশনা আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আমাকে জানাননি। আমরা সীমিত পরিসরে কিস্তি আদায় করছি।'

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'সকল এনজিওকে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায় করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর