weather ২৮.৪১ o সে. আদ্রতা ৭৩% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের গজলডোবার বাঁধ খুলে দেওয়ায় সারা দেশে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ : ২৮-০৮-২০২৩ ১১:৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ভারতের গজলডোবার বাঁধ খুলে দেওয়ায় সারা দেশে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত তিস্তা গজলডোবার বাঁধ খুলে দেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ভারত বাংলাদেশের দিকে ২ লাখ ১ হাজার ৬৪৭ কিউসেক এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৮ কিউসেক পানি ছেড়েছে। এতে তিস্তার ভারতীয় সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হলেও দোমহনী থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সেচ দফতর।
পশ্চিমবঙ্গের ফ্ল্যাড অথরিটি সেন্টারের পক্ষ থেকে গতকাল জানানো হয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সিকিম, দার্জিলিং ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সমতলের তুলনায় পাহাড়ে বৃষ্টির পরিমাণ তারও বেশি। ফলে উত্তরের নদনদী ও পাহাড়ি ঝোরাগুলোতে দেখা দিয়েছে অপ্রত্যাশিত বন্যা। যা ব্যারাজ দিয়ে আটকে রাখা বা সাময়িক সময়ের জন্য ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পূর্ব দিকের জেলাগুলো (দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, আলিপুর-দুয়ার জেলা), সিকিম, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের ওপর ৫০০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, কৃত্রিম ভূউপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র, আবহাওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন সূচক ও পূর্বাভাস মডেলগুলো হতে পূর্বাভাস সঠিক হলে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও সুরমা নদীর উপকূলবর্তী সকল জেলায় বন্যা শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
এ দিকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ দিকে পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজে ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভারতের উজানে পানি বৃদ্ধির কারণে গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই খুলে দেয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীর পানি মারাত্মক বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।
অন্য দিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগ এড়াতে তিস্তা নদীর অববাহিকা, চর, দ্বীপচরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, নোহালী, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও কাউনিয়া উপজেলার ধুসমারার চর, আজম খাঁ চর, হাইবত খাঁ গোনাই, পল্লীমারী, চর একতা, চর মিলনবাজার, গোপীকাল্লা, ডালার চর ও চর গোদাই গ্রামে পানি প্রবেশ করায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘর তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে ধানসহ শস্য ক্ষেতগুলো তলিয়ে আছে পানিতে। পানিবন্দী মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে ও পাউবো বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। গঙ্গাচড়ার দক্ষিণ কোলকোন্দের বাসিন্দা ও শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, তিস্তা নদী আমাদের জন্য অভিশাপ। প্রতি বছর নদীর সাথে যুদ্ধ করে আমাদের জীবনযাপন করতে হয়। চরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় আমরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছি। নিজেদের খাবারের পাশাপাশি গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। সে কারণে দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণ আর ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com