weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭০% , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াডাঙ্গীর শাকিল হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান জামিনে মুক্তি পেয়েছে

প্রকাশ : ৩০-১১-২০২২ ২০:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিযাডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবিলীগের সভাপতি শাকিল আহাম্মেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামী ভানোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের আইনজীবি বুধবার আদালতের বিচারকের নিকট জামিনে আবেদন প্রার্থনা করলে শুনানী শেষে তার জামিন আবেদন মুঞ্জুর করে তাকে মুক্তি দেয়।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদ এই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবি এ্যাড. সৈয়দ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর ইউনিয়নের মৎসজীবী লীগের সভাপতি শাকিল আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও দুই নাম্বার আসামী দেলোয়ার হোসেনের  জামিনের জন্য গত ২৩ নভেম্বর আদালতের বিচারকের নিকট আবেদন করলে মহামান্য আদালতের বিচারক ওইদিন দেলোয়ার হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন আর প্রধান আসামী রফিকুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে পুনরায় জামিনের জন্য বুধবার ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য্য করেন। সেই প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করা হলে শুনানী শেষে আদালতের বিচারক তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে তাকে মুক্তি দেয়।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর ভানোর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম স্বশরীরে ঠাকুরগাঁও আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিন চাইতে গেলে আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাটে তুচ্ছ ঘটনায় সাকিল আহম্মেদ (২৫) নামের ভানোর ইউনিয়ান মৎস্যজীবিলীগের সভাপতিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ভানোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (৪০) সহ ২০ জনকে আসামী করে নিহতের ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহিদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
সাকিল আহাম্মেদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী ভানোর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হাইকোটে জামিনের আবেদন করলে মহামান্য হাইকোট ডিভিশন ব্যঞ্চের বিচারক তাকে দুই সপ্তাহের মধ্য নিম্ন আদালতে আত্মসমপণ করার আদেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মামলার আসামী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সেচ্ছায় জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ উভয় পক্ষের আইনজীবিদের নিকট শোনানী শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তৎসঙ্গে ভিক্টিমের যখমী সনদপত্র, ময়না তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনসহ অন্যন্যে আহতদের যখমী সনদ পত্র
আগামী ১৬ নভেম্বর পরবর্তী মামলার ধার্য্য তারিখে তদন্তকারী ডিবি পুলিশের এসআই সুলতান আলীকে স্ব-শরীরে উপস্থিত হাজির করার আদেশ প্রদান করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবিরা হলেন- বাদী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবি আলহাজ্ব সৈয়দ আলম, জয়নাল আবেদীন, রুহুল আমীন। রাষ্ট্র পক্ষের পিপি ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবি সেকর চন্দ্র।
আসামী জামিনের পক্ষে ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবি ইউসুফ আলী, এ্যাডভোকেট আবেদুর রহমান, এ্যাডভোকেট মীর আফজালুর রহমান।
উল্লেখ্য যে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হলদিবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেন গত ১৯ আগস্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে খুতবায় একটি বাক্যের উচ্চারণ করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে শাহিদ আলম ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহমানসহ কয়েকজনের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। এঘটনায় সাহেদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় ২ সেপ্টেম্বর রাতে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে মারপিটের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে দু'পক্ষের মধ্য সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে এতে ইউনিয়ন যুবলীগগের সাধারণ সম্পাদক সাহিদ আলম (৩০) ও তার ছোট ভাই ভানোর ইউনিয়ন মৎস্যজীবীলীগের নেতা সাকিল আহম্মেদ (২৫) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৭ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিল আহম্মেদের মৃত্যু হয়। সেখানে লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। নিহত সাকিল আহম্মেদ হলেন- উপজেলার হলদিবাড়ী গ্রামের মরহুম সামশুল হক অরফে কুসমতদ্দীনের ছেলে ও ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজিবীলীগের নেতা। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামী করে নিহতের ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহিদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে এই মামলার অভিযুক্ত ২০ জন আসামীর মধ্য ৮ জন আসামীকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
অপরদিকে, ভানোর ধনিরহাট গ্রামের হামিদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভানোর ইউনিয়ন শাখার দুই বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত্ব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ৬নং ভানোর ইউনিয়নবাসী তাকে সাড়ে নয় হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করে বিজয় করেছে। তিনি দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে একটি মহল তার পিছনে লেগে রয়েছে। তাকে কি ভাবে বিপদে ফেলে ভানোর ইউনিয়ন থেকে তারিয়ে দেওয়া যায় সেই গভীর ষড়যন্ত্র করতে মরিয়া উঠে পড়ে লাগে। ষড়যন্ত্রকারীরা আগের মতো এই ইউনিয়নে বিশৃঙ্খল পরিবেশ ও অরাজগতা সৃষ্টি করে কিভাবে লুটপাট করতে পারবে সেই ষড়যন্ত্র আকতে থাকে। ওই মহলটি ভানোর ইউনিয়নের মানুষের উপর হামলা, তুচ্ছ ঘটনা ঘটিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে হয়রানি করা যায়, এই ছিল তাদের মুল পরিকল্পনা। গত ইউপি নির্বাচন চলাকালে তারা বলেছিল, ভোট করাতো দুরের কথা, রফিকুল ও তার কর্মীরা বাড়ীতে থাকতে পারবে না, বলে নানা ধরনের হুমকী দেওয়া হয়েছে। রফিকুল চেয়ারম্যান একজন উদার ও জনদরদী, তিনি প্রতিনিয়ত অসহায় গরিব দুখী মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। এমন একজন গরিব সেবক মানুষ কখনো হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারেনা।
সাপটি ময়মনসিংহ পাড়ার আব্দুর রশিদ জানান, মামলার বাদী সাইদ আলম সংঘর্ষের ঘটনাটি ধারণকৃত ভিডিও সাথে পূর্বের ভিডিও ও ছবি সংযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের তার ব্যবহৃত আইডি থেকে ছাড়িয়ে ঘটনাটি বিভান্তকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। 
অপরদিকে, ভানোর ডালিম পাড়ার আব্দুল গনি বলেন, মামলার বাদী সাঈদ আলম ও তার লোকজন মিলে ইতিমধ্যে মামলার অভিযুক্ত আসামী বিশ্রামপুর গ্রামের আয়শা বেগম ও আব্দুল কাদেরের বাড়ীতে হামলা করে এবং বিভিন্ন লোকজনকে এই মামলায় সম্পৃক্ত করার হুমকী অব্যহত রেখেছে।
এদিকে, বিশ্রামপুর গ্রামের সলিম উদ্দীন জানান, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে মামলার বাদী সাঈদ আলম জানান, আমি আমার ভাইয়ের হত্যার সুষ্ট তদন্ত সহ দোষি ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী করছি। 
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম বলেন, বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমানে মামলাটি ঠাকুরগাঁও ডিবি ব্রাঞ্চে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
ঠাকুরগাঁও ডিবি ব্রাঞ্চে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসঅই সুলতান আলী জানান, ঘটনাস্থে গিয়ে বাদী ও সাক্ষীদের জবান বন্দী গ্রহণ করা হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com