বালিয়াডাঙ্গীতে স্ত্রীকে উদ্ধারে শ্বশুর-শাশুড়ী ও সমন্ধীর বিরুদ্ধে জামাতার আদালতে মামলা দায়ের
প্রকাশ : ১০-০৭-২০২৩ ২০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁয়ের বলিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়ের নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামে স্ত্রীকে বাবার বাড়ী হতে উদ্ধারের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ও সমন্ধীর বিরুদ্ধে জামাতা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগীর ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেস্বরবাড়ী গ্রামের রমেশ শীলের পুত্র রজনী কান্ত শর্মার সাথে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারদহ কামারপাড়া গ্রামের দেবেন চন্দ্র শীলের কন্যা সুমী রাণী অরফে বৃষ্টির সাথে গত ২০২২ সালের ১লা আগস্ট হিন্দু ধর্ম মতে বিবাহ হয়। বিয়ের দিনে রজনী কান্ত শর্মা বিবাহের নিদর্শন স্বরুপ নববধু স্ত্রীকে চার ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও কাপড় চোপড়ার প্রদান করে। সে পেশায় একজন নরসুন্দর হওয়ার ফলে মোটামুটি স্বচ্ছ ভাবেই তার সংসার চলে।
বিয়ের পর তাদের সংসার জীবনের সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিলে এরই মাঝে তার সমন্ধী হীরেন চন্দ্র শীল অরফে সম্ভারু গত ২০২২সালের ১৫ই নভেম্বর রজনী কান্ত শর্মা বাড়ীতে অনুপস্থিতির সুযোগে তার বাড়ীতে এসে চার চার ভড়ি ওজনের স্বর্ণালংকার ও কাপড় চোপড় আসবাবপত্র নিয়ে সে তার বোন সুমী রাণী অরফে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরে সে বাড়ীতে ফিরে এলে স্ত্রীকে তার সমন্ধী নিয়ে যাবার কথা জানতে পারে। রজনী কান্তা শর্মা স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনদেরকে নিয়ে ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী সুমী রাণীকে আনতে গেলে তার পরিবারের লোকজন তাকে স্বামীর সংসারে পাঠাবেনা বলে রজনীকে সাফ জানিয়ে দেয়। এসময় রজনী কান্ত স্ত্রীকে বাবারবাড়ী থেকে না পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে সুমী রাণীর পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি ও হুমকী পরিদর্শন করে বলেন জীবন বাচাঁতে চাইলে এই মূহুর্তে বাড়ী থেকে বেড় হয়ে ফিরে যাও। এমন কথাগুলো শোনার পর সে বাড়ীতে ফিরে এসে ঘটনার কথাগুলো রজনী কান্ত তার পরিবারের লোকজনকে জানানোর পর স্থানীয় ধনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যাটার্জী নুপুর এর নিকট সালিশ বিচারের জন্য আবেদন। কিন্তু বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও রজনী কান্ত শর্মার সেই আবেদনটি রহস্যজনক কারণে আমলে নেওয়া হয়নি। এরপর গত ২২ মার্চ রজনী কান্ত শর্মার পক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবি সমিতির এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বীর সাক্ষরিত উকিল নোটিশ সুমী রাণীকে করা হলে তার কোন জবাব কিংবা ভিক্টিম সুমী রাণী স্বামীর বাড়ীতে যাওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে রজনী কান্ত শর্মা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নিকট স্ত্রীকে নিয়ে ঘর সংসারের করতে তার বাবার বাড়ী হতে তাকে উদ্ধারের জন্য সালিশ বিচারের জন্য আবেদন করে। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বেলাল উদ্দীন সূমী রাণীকে সালিশ বৈঠকের জন্য কয়েকবার নোটিশ করলেও এতে সে কোন সাড়া না দেয়নি।
রজনী কান্ত শর্মা একাধিকবার শ্বশুড় বাড়ীতে স্ত্রী সুমী রাণীকে নিতে গেলে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। বাবার বাড়ীতে অবস্থানকালে সুমি রাণীর গর্ভে ৬ মাসের অন্ত:স্বত্তা হয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে রজনী কান্ত শর্মা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ এক্সিউজিটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্ত্রী সুমী রাণীকে উদ্ধারের জন্য শ্বশুড়-শাশুড়ী ও সমন্ধীসহ তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং-৩২৬/২৩।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী বাদী রজনী কান্ত শর্মার পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবি ও ঠাকুরগাঁও বারের আইনজীবী বাবুল হোসেন বলেন, এই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে গত ১৩ জুন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা সুমী রাণীর গর্ভের ফুটফুটে এক নবজাত পুত্র সন্তান জন্ম হয়েছে বলে রজনী কান্ত শর্মা লোকমুখে সংবাদ পেয়ে নিশ্চিত করেছেন।
রজনী কান্ত শর্মা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী সুমী রাণী দীর্ঘ কয়েক মাস তার বাবার বাড়ীতে অবস্থান করে। আমি তাকে নিয়ে সংসার করার জন্য বারবার আনতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে বিভিন্ন দপ্তরে বিচার সালিশের আবেদন করেও কোন সুরহা খুঁজে না পেয়ে অবশেষে আদালতে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।
বর্তমানে আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন মিলে আমাকে প্রাণ নাসের হুমকীসহ নানা রকম ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ আমার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে যে কোন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার হুমকী অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় আমিসহ পরিবারের লোকজন মিলে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছি।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com