বালিয়াডাঙ্গীতে বিএনপির ৮৪ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা দয়ের
প্রকাশ : ০৪-১১-২০২৩ ১৪:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থানায় বিএনপি ২৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্য করে আরো ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত নামার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই শামীম আলম বাদি হয়ে গত বৃহস্পতিবার ২ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হলেন-উপজেলার ধনতলা (মুন্সীপাড়া) গ্রামের মুক্তাবুদ্দিনের ছেলে ও বিএনপির নেতা হাজিরুল ইসলাম (৪১), ধনতলা (বোয়ালিয়া মোড়), গ্রামের মরহুম দিনকাটু মোহাম্মদের ছেলে বিএনপির নেতা শরিফ উদ্দিন (৫৮), ও দুওসুও (মাষ্টারপাড়া) গ্রামের মরহুম এলাহী বকস্ এর ছেলে ও উপজেলা কৃষকদলের নেতা আবুল কাশেম মানিক ওরফে ডিস মানিক (৫০) সর্বোমোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করে। আটককৃত আসামীদের জেল হাজতে পেরণ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২ নভেম্বর ভোর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বালিয়া পুকুর সংলগ্ন রাস্তায়, চলমান অবরোধ পালনের লক্ষ্যে, ত্রাস সৃষ্টি করা, মানুষের জান মালের ক্ষতি সাধনের অংশ হিসেবে বিএনপি জামায়াতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে ককটেল বিস্ফোরণ করে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত হলেন-উপজেলার ধনতলা (মুন্সীপাড়া) গ্রামের মুক্তাবুদ্দিনের ছেলে ও বিএনপির নেতা হাজিরুল ইসলাম (৪১), ধনতলা (বোয়ালিয়া মোড়), গ্রামের মরহুম দিনকাটু মোহাম্মদের ছেলে বিএনপির নেতা শরিফ উদ্দিন (৫৮), ও দুওসুও (মাষ্টারপাড়া) গ্রামের মরহুম এলাহী বকস্ এর ছেলে ও উপজেলা কৃষকদলের নেতা আবুল কাশেম মানিক ওরফে ডিস মানিক (৫০) সর্বোমোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো বিএনপি ও জামায়াতের অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করে। আটককৃত আসামীদের জেল হাজতে পেরণ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ফুলতলা গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ড. টিএম মাহাবুবর রহমান(৫০), বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের মরহুম আব্দুল লতিব এর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম (৪৫), সনগাঁও গ্রামের মরহুম হামিদুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও দুওসুও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আশরাফুল আলম অরফ কাবুল চৌধুরী (৫৫), গোয়ালকারী গ্রামের দবির উদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন আক্তার সবুর (৪৫), বড়পলাশবাড়ী বড়গোছিয়া গ্রামের কাজী ফাহিম পল্টুর ছেলে ও ৪ নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন অরফে অবাক (৪৬), দুওসুও চড়কডাঙ্গী গ্রামের দবিরুল ইসলামের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের নেতা আব্দুল কাদের (৩৫), দুওসুও ঢেকনা পাড়া গ্রামের মরহুম হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি জুলফিকার আলী শাহ (৩৮), ফুলতলা গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ও বড়বাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী জিল্লুর (৪৩), বড়পলাশবাড়ী জাফরটলী গ্রামের মরহুম শেখ সমিরের ছেলে ও ও উপজেলা যুবদলের নেতা মিজানুর রহমান মিজান (৩৫), বালিয়াডাঙ্গী ফকিরবস্তী গ্রামের মরহুম বাহাদুর আলীর ছেলে ও উপজেলা যুবদলের নেতা এন্তাজ আলী (৪২), সনগাঁও গ্রামের সাফুদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের নেতা ওমর ফারুক পান্না (৪০), লালাপুর গ্রামের মরহুম ইদ্রিস আলীর ছেলে ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দবিরুল ইসলাম (৪২), বালিয়াডাঙ্গী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের মরহুম ঘাটিয়ার এর ছেলে ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম (৫০),
মধুপুর জংঙ্গলবাড়ী গ্রামের মরহুম সিরাজ উদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক (৩৮), বালিয়াডাঙ্গী ফকিরবস্তী গ্রামের আলহাজ্ব মকিম উদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মকবুল হোসেন (৫০), মহিষমারী গ্রামের মরহুম করিম উদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আইয়ুব আলী খাঁন (৫২), ভানোর ঝাড়বস্তী গ্রামের মরহুম আশির উদ্দীনের ছেলে ও উপজেলা ওয়ালেমা দলের সাধারন সম্পাদক মাওলানা হাসান আলী (৪৩), ভানোর নেংটিহাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ও ভানোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান শহীদ (৩৮), বালিয়াডাঙ্গী মাহাজনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে ও বড়বাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সোহেল রানা (৩০), আমজানখোর মেরদাপাড় গ্রামের মরহুম দরবকস এর ছেলে ও আমজানখোর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তসলিম উদ্দীন (৩৮) ও ভানোর দূগাপুর গ্রামের মরহুম মকবুল হোসেনের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সদস্য সচিব ইলিয়াস আলী (৩৫) সহ মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে বিএনপি ও জামায়াতের আরো অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করে বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই শামীম আলম বাদী হয়ে এজাহার করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২ নভেম্বর ভোর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বালিয়া পুকুর সংলগ্ন পাঁকা রাস্তার ওপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত ও বালিয়াডাঙ্গী থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় নাশকতামুলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে বালিয়াডাঙ্গী- ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে চলমান মোটরযান বাহন ভাঙচুর ও পেট্রল বোমা মেরে অগ্নি সংযোগ করে। এ ছাড়া আসামিরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ককটেল, পেট্রল বোমা, লাঠিসোটা, লোহার রড ও ইটের টুকরা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
চলমান অবরোধ পালনের লক্ষ্যে,ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যে, মানুষের জান মালের ক্ষতি সাধনের অংশ হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে ককটেল বিস্ফোরণ করে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
বালিয়াডাঙ্গী বাজার টহলরত পুলিশ থানায় খবর দিলে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌছালে মিছিল থেকে অনবরত ইট পাটকেল ছুরতে থাকে পুলিশকে লক্ষ করে, এতে ঘটনা স্থলে দুজন পুলিশ আহত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসারত রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে মিছিল কারী দুর্বৃত্তরা ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা ও একটি তাজা ককটেল ও একটি ইটপাটকেলের বস্তা ও গাছের ডালের লাঠি সোঠা এবং একটি আগুনে পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ।
তবে, আটক তিনজনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com