বালিয়াডাঙ্গীতে পোল্ট্রির লিটারের দূর্গন্ধে জনদুর্ভোগ চরমে এযেন দেখার কেউ নেই
প্রকাশ : ১০-১১-২০২৩ ১৬:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ॥ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের আরাজি সরলিয়া জোতপাড়া গ্রামের মহাসড়কের পাশ্বে পোল্ট্রির মুরগির লিটারের দূর্গন্ধ ছড়ানোয় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এতে প্রায়ই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষাথীদেরসহ অনেক পথচারী লোকজনের ডায়রিয়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তা ছাড়া ফসলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি হতে নির্গত দূষিত বর্জ নামায় ফসল আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। পোল্ট্রির লিটার নীচ দিয়ে সব সময় বর্জ পানি বাহিরে ছড়ানোয় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সরজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে এলাকাবাসী জানায়, মুরগীর লিটার উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ওইসব নিষিদ্ধ লিটার মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কোম্পানী হতে কিনে ট্রাক্টর ট্রলিতে করে বিভিন্ন মৎস্য খামারে বিক্রি করছেন। এসব লিটার বহনের সময় সারা এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে পরিবেশ ভারি করে তোলে। লিটার বের করে নেয়ার সময় আশ পাশের বাড়ী ঘরের জানালা কপাট বন্ধ করে দিতে হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য হবিবর রহমান জানান, পোল্ট্রির লিটারের দূর্গন্ধে এলাকার জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কারন হচ্ছে এর প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার আলোচনা করেছেন, তারা প্রতিকার করবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে পোল্ট্রি লিটার ব্যবসায়ী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে, জোতপাড়া গ্রামে বসবাসকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি দীর্ঘদিন যাবত জোতপাড়া গ্রামের মহাসড়ক সংলগ্ন ও বেসরকারী সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ বালিয়াডাঙ্গী আঞ্চলিক অফিসের পাশে রাস্তার দুধারে এলাকার কতিপয় ব্যাক্তি পোল্ট্রি লিটারের স্তুপ করে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। লিটারের দূর্গন্ধে সারা এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে পরিবেশ ভারি করে তোলে।
বিষয়টি মৌখিকভাবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিপুল কুমারকে জানানো হলে তিনি উপজেলা কমিশনার ভূমি ফাতেমাতুজ জোহরাকে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শনা দেন। পরবর্তীতে উপজেলা কমিশনার ভূমি ফাতেমাতুজ জোহরা গত এক সপ্তাহ আগে সরেজমিনে সেখানে পরিদর্শন করে মহাসড়ক ও বাসা বাড়ীর আশে পাশ্বে পোল্ট্রি লিটারের স্তুপ সড়িয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও লিটার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ওইসব নিষিদ্ধ দুর্গন্ধময় লিটারের ব্যবসা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন, এযেন দেখার কেউ নেই। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী দুর্গন্ধযুক্ত লিটারের স্তুপগুলো অপসারণ ও মানুষের বসবাসকারী এলাকায় এধরনের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com