weather ৩০.৯৯ o সে. আদ্রতা ৬২% , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াডাঙ্গীতে নিরাপদ সবজি চাষাবাদে কেঁচো সার ব্যবহার কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে

প্রকাশ : ৩০-১২-২০২৩ ১৭:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে নিরাপদ সবজি চাষাবাদে কেঁচো সার ব্যবহার কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিরাপদ সবজি চাষাবাদে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে দেশে ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার অর্থাৎ কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প নামে কেঁচো সারের (ভার্মি কম্পোস্ট) একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
এ বছর সরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কৃষক পর্যায়ে ১৩টি প্রকল্প এসেছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য চারটি রিং, টিনের চালাসহ কেঁচো ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বরাদ্দ আছে।
বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গীতে প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ মেট্রিক টন (১০০০ কেজিতে এক টন হিসাবে) কেঁচো সার উৎপাদিত হচ্ছে। চাষি পর্যায়ে এসব সার বিক্রিও হতে শুরু হয়েছে।
ফুলতলা গ্রামের কেঁচো চাষি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘টিনের চালাতে ৭২টি ও খোলা জায়গায় ৫০টি রিং দিয়ে কেঁচো চাষ শুরু করেছিলাম। বৃষ্টিতে খোলা স্থানের কেঁচোগুলো নষ্ট হয়েছে।
এখন ৭২টি রিংয়ে দুই মাস অন্তর প্রায় দুই মেট্রিক টন সার পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর লেবার ও গোবরের দাম বেড়েছে, তাই কেজিতে এক টাকা করে দাম বৃদ্ধি করে ১৮ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কেঁচো সার উৎপাদন পদ্ধতি সহজ। এখানে বিশেষ কোনো উপাদান নেই।
গোবর থেকে এই সার উৎপাদিত হয়। রিংয়ের মধ্যে গোবরে কেঁচো ছেড়ে দিলে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে কেঁচো গোবর খেয়ে ফেলে। গোবর খেয়ে কেঁচো যে মল ত্যাগ করে, সেই মলই হলো ভার্মি সার বা কেঁচো সার। দেখতে চায়ের পাতির মতো। এতে প্রাকৃতিক সুগন্ধিও রয়েছে।
বর্তমানে আমার ফার্মে ১০ লক্ষাধিক কেঁচো রয়েছে।’
এলাকায় পেঁয়াজের বীজ চাষিদের কাছে ভার্মি সারের চাহিদা বেড়েছে। এ বিষয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষি মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি স্থানীয় এক কৃষি উপসহকারীর পরামর্শে জমিতে ভার্মি সার ব্যবহার করেছিলাম। এই সার ব্যবহারের কারণেই আমার ফলন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’
কৃষি উপসহকারী মাহামুদুল হাসান তপন জানান, গত বছর ২০০ বিঘা (৩৩ শতকে বিঘা হিসাবে) জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজের বীজের অনেক বেশি আবাদ হয়েছে। এসব আবাদে কেঁচো সার অত্যন্ত কার্যকরী। দিন দিন কেঁচো সারের চাহিদাও বাড়ছে। নিরাপদ সবজি ও ফল চাষের কথা মাথায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কেঁচো সার উৎপাদনে অনেকেই এখন ঝুঁকেছেন। অর্থনৈতিকভাবে অনেকে সফলও হয়েছেন ভার্মি সার উৎপাদন করে।
এ ব্যপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ  মো. সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত সবজি কিংবা ফল উৎপাদনে কেঁচো সারের বিকল্প নেই। আমরা কৃষক পর্যায়ে ভার্মি অর্থাৎ কেঁচো সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। এটি ব্যবহারে ফলন অনেক বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমে যায়। এটি মানবদেহের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।’

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com