বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষিতা অন্তসত্বা মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণের এক মাসেও উদ্ধার হয়নি
প্রকাশ : ১৭-০৫-২০২৩ ২০:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ কে আজাদ:ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের বখাটে ছেলে নুরুজ্জামান (২৮) প্রতিবেশী সম্পর্কীয় চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে ও মাদ্রাসা পড়ুয়া নাবালিকা ছাত্রী (১৫) কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ধর্ষণের ফলে ওই ছাত্রী গভে ৩ মাসে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর ধর্ষক ও তার লোকজন মিলে তাকে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ এযাবৎ ভিক্টমকে উদ্ধার ও আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের বখাটে ছেলে নুরুজ্জামান গত ২০ জানুয়ারী শুক্রবার বিকাল ৫টায় প্রতিবেশী সম্পর্কীয় চাচাতো ভাই জৈনেক দিনমুজুরের নাবালিকা মেয়ে ও মধপুর নয়া দীঘি এম রফিক আলিম মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্রীর বাড়ীর লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে সে তার শয়ন
ঘরে প্রবেশ করে তার শয়ন ঘরের দরজা বন্ধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লম্পট নুরুজ্জামান ওই মাদ্রাসার ছাত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। এসময় সে তার ইজ্জত রক্ষার চেষ্টায় চিৎকার দিলে আসে পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষক নুরুজ্জামানকে উলঙ্গ অবস্থায় আটক রাখে। এক পযার্য়ের ধর্ষক নুরুজ্জামান ভিক্টিমের বাড়ী হতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংশার আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপন করে আসার এক পযার্য়ের ওই ছাত্রী গর্ভে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে এমন সংবাদ জানার পর ধর্ষক ফায়দা হাসিল করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই মাঝে গত ১৯ এপ্রিল বুধবার বিকাল ৪ টায় ওই মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রী বাড়ীর পাশে মাঠে ছাগল আনতে গেলে এসময় ধর্ষক নুরুজ্জামান ও তার লোকজন মিলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে থ্রি- হুইলার পাগলু গাড়ী যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এঘটনায় অপহিতা ছাত্রীর দিনমজুর বাবা বাদী হয়ে গত ২৪ এপ্রিল প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ভিক্টিমের দিনমজুর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষক ও অপহরণকারী নুরুজ্জামানসহ ৪জনের বিরুদ্ধে গত ২ মে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত (জেলা ও দায়রা জজ) ঠাকুরগাঁও, আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তার অভিযোগটি শুনানী শেষে আদালতে আমলে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে থানায় মামলা হিসেবে রুজু করতে আদেশ দেন। আদালতের আদেশ প্রাপ্তির পর গত ১২ মে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। যাহার মামলা নং- ১৫।অপহরণের একমাস অতিবাহিত হলেও এযাবৎ পুলিশ ভিক্টিমকে উদ্ধার ও আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
অপহিতা মাদ্রাসার ছাত্রী কোথায় এবং কিভাবে আছে, বেঁচে আছে নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে সেই শংকাতে আতঙ্কিত তার পরিবার।
ভিক্টিমের দিনমজুর বাবা বলেন,মামলার আসামীদের গ্রেফতার না হওয়া এবং আমার মাদ্রাসা পড়ুয়া নাবালিকা অপহিতা তিন মাসের অন্তসত্বা মেয়েকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার না হওয়ায় পরিবারের সকলেই ভেঙ্গে পড়েছি।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিমকে উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা চলছে। আশা করি ভিক্টিম খুব দ্রুতই উদ্ধার হবে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com