বালিয়াডাঙ্গীতে আম চাষিদের দুর্দিন : বাগানেই নষ্ট হচ্ছে পাকা আম
প্রকাশ : ১৫-০৭-২০২১ ২০:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ (বালিয়াডাঙ্গী): ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আম চাষিদের দুর্দিন চলছে। করোনায় লকডাউনে পড়ে গেছে বাজার। ক্রেতা ও যানবাহনের অভাবে বাগানেই আম পচে যাচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবে আম বাজারে তুলতে পারছেন না চাষিরা। ফলে ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা তারা।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জানান, উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে এ বছর ১০ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলায় সবচেয়ে বড় আমের মোকাম হচ্ছে বাদামবাড়ী হাট, মড়ল হাট, জিয়াখোর হাট, ধনিরহাট, বালিয়াডাঙ্গী। সেখান থেকে ১০ দিন আগেও ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হতো। এখন ২০-৩০ ট্রাক আমও বিক্রি হচ্ছে না।
ধনিরহাট আড়তদার সাইদুর রহমান জানান, বর্তমান আমের বাজার খুবই কম। করোনার কারণে আম বাজারজাত ও পরিবহন করা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে সবচেয়ে ভালো আম ৮শ’ হদে ৯শ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে । এখন বেশির ভাগ আম ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বালিয়াডাঙ্গী, বাদামবাড়ী হাট, মড়ল হাট, জিয়াখোর হাট, ধনিরহাট বাজারে পাশের রাণীসংকৈল উপজেলার আম বিক্রির জন্য আনা হয়।
আম চাষিরা জানান, বর্তমান আমের যে বাজার তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। আম বিক্রি করে চাষিদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন আমের ভরা মৌসুম চলছে। অথচ বাগানে কোনো ব্যাপারি আসছেন না। কিছু ব্যাপারি বাগান কেনার বায়না করে গেলেও আর আসছেননি। বাগানের আম গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা গড়িয়ালী গ্রামের মিজানুর রহমান ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে অম্রপালি চাষ করেছিলেন। কিন্তু তিনি এখন ভালো দামে আম বিক্রি করতে পারছেন না। কিভাবে তিনি ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওর দেনা পরিশোধ করবেন এমন চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পাড়ছেন।
একই গ্রামের আবুল হোসেনের বাগানে আমের ব্যাপক ক্ষতি দেখে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনিও ঋণ নিয়ে আম চাষ করেছিলেন। ওই গ্রামের সাজেজার রহমানের সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। তিনি কিছু আম বিক্রি করতে পারলেও এখন আর ব্যাপারিরা আম কিনতে আসছে না। জিয়াখোর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন ও আলীনুর রহমানেরও একই দুরবস্থা। মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর ও পিরোজপুর জেলার ব্যাপারিদের আনাগোনায় এ সময় আম বাগান মুখরিত থাকত। এখন আর কেউ আম কিনতে আসছে না। তিনি জানান, কিছু ব্যাপারি এলেও তারা মাত্র ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা মণ আম কিনতে চাচ্ছে। এই দামে আম বিক্রি করলে তাদের অনেক বেশি লোকসান হবে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক জানান, করোনার ভয়াল বিস্তার ও নানা রকম বিধিনিষেধের কবলে চাষিরা আম বিক্রি করতে পারছেন না। বাইরের ব্যাপারিরা পরিবহন সঙ্কটের কারণে আসতে পারছেন না। চাষিদের আম পরিবহন সহজতর করার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com