বনের রাজা বানর - হারুন অর রশিদ
প্রকাশ : ১৩-০৮-২০২০ ২১:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
"বনের রাজা বানর"- বড় এক বন। বনে অনেক প্রাণির বসবাস। হিংস্র, নিরীহ, চতুর ও ছেঁচড়া টাইপের অনেক প্রাণি। এদের মধ্যে সিংহ, বাঘ, ভাল্লুকেরতো ভাবই আলাদা এবং যেটি হিংস্র টাইপের হাতি ও গন্ডার নিজের মতো করে চলছে, কারো সমস্যা দেখা বা শোনার যোঁ নেই। শিয়াল চালাক প্রকৃতির। ছাগল, বন গরু, খরগোশ ও হরিণ নিরীহ প্রাণি। বানর ছেঁচরা টাইপের।
এ বনের রাজা সিংহ। তার উপর কথা বলার কেউ নাই। সে যেমন খুশি চলে এবং বলে। বাঘ নিরীহদের মধ্যে যাকে খুশি তাকে ধরে এনে আহার করে। এতে বনে থাকা ছাগল, বন গরু, খরগোশ ও হরিণের সমস্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেতে লাগলো। আজ খরগোশের বাচ্চা নাই, তো কাল হরিণের ছানা নাই। পরশু বনগরুর বাছুর হাওয়া।
এ সমস্যা দিনে দিনে প্রকোট আকার ধারণ করলো। একদিন নিরীহ প্রাণিগুলো বিচারের জন্য যার-তার কাছে ধর্ণা দেওয়া শুরু করলো। সবাই সুযোগ নেওয়ার ধান্দায় ব্যস্ত। এরই মধ্যে বানর ও শিয়াল সিংহকে বুঝিয়ে সাধারণ সভার আয়োজন করলো। সাধারণ সভা হলো সবাই সবার মতো করে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন তুললেন। সিংহ সবার কথা শুনে বেশ রাগান্নীত হলেন। বেকায়দায় পরে রাগ করে বললেন, তোমরা যেহেতু মনে করছ আমি বনের প্রাণিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছি তাই আমি আমার দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। তোমরা দেখে, শুনে ও বুঝে তোমাদের নেতা নির্বাচন করো। যেন সে তোমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে।
ব্যাস, বানর আর শিয়াল বেশ খুশী। বনের এ সভায় নিরীহ প্রাণিদের সংখ্যা ঢেড় বেশী। বাঘ ও ভাল্লুক ভাবলো সিংহের পরে এবার দায়িত্ব আমাদের উপর বর্তাবে। ভাব নিয়ে বসে থাকলো। বানর আর শিয়াল বেশ দৌঁড় ঝাঁপ শুরু করলো নিজের জনমত সৃষ্টির জন্য। নিরীহ প্রাণিরা ভাবলো বানরকে সমর্থন দিলে অন্তত একবেলা গাছের ডালপাতা ভেংগে আমাদের আহাড়ের ব্যবস্থা করতে তো পারবে! নিরীহ প্রাণিরা সবাই একবেলা খাবে এবং নিরাপত্তার আশায় বানরকে সমর্থন দিলো। সাধারণ সভায় সংখ্যা গরিষ্ঠের কন্ঠভোটে বানর বনের রাজা হলেন। সিংহ মেনে নিলেন। কিন্তু বাঘ আর ভাল্লুক মানতে নারাজ। তারা রাগ করে যার যার আস্তানায় চলে গেল।
বানর খুশীতে একবার লাফ দিয়ে এ গাছেতো আবার লাফ দিয়ে অন্য গাছে উঠছে। এ ডাল ভাংছে ও ডাল ভাংছে, এ গাছে ফল ছিঁড়ে ফেলছে, ও গাছের ফল ছিঁড়ে ফেলছে। নিচে থাকা ছাগল ও বনগরুগুলো খুব মজা করে খাচ্ছে আর ভাবছে এই না হলো আমাদের নেতা! আমাদের আর কোন অভাব থাকবে না! খেয়ে দেয়ে যে যার বাসায় গেল।
রাত হলো একদিন অতিবাহিত হলো।পরের দিন যেতে না যেতেই খরগোশের বাচ্চাটি নেই। পরের দিন হরিণ, বনগরু আর ছাগলের পালকে দৌঁড়ানীর উপর রাখছে বাঘ আর ভাল্লুক।
নিরীহ প্রাণির দল আবার গেল বর্তমান বনের রাজা বানরের কাছে। বানরের কাছে অভিযোগ করলেন। বানর মনোযোগে অভিযোগ শুনলেন। একটু ভাবলেন এবং তার পরের দিন তদন্ত কমিটি করে সত্যতা উদঘাটনের ব্যবস্থা নিবেন বলে জানালেন। বেশ আরো একটি রাত গেল। তদন্ত কমিটি হতে হতে আরো দু'একটি নিরীহ প্রাণির জীবনাবসান হলো।
পরের দিন খুব সকালে উঠে বনের রাজা বানর ছাগলের জন্য কাঁঠাল পাতা, গরুর জন্য বাঁশ পাতা, হরিণের জন্য ঘাস আর খরগোশের জন্য কলা পাতার বোঝা যার যার বাসস্থানের কাছে পৌঁছে দিলেন। নিরীহ প্রাণিরা বাচ্চা হারানোর কঠিন শোক ও মনের কস্টগুলো পছন্দের খাবার পেয়ে ভুলে গেল।নিরীহ প্রাণিগুলো তদন্ত নামের শব্দটি ভুলে গেল। আবার যেমন চলছিল চলছে।
ক'দিন যেতে না যেতেই আবার নিরীহ প্রাণিদের বেশ ক'টি বাচ্চা উধাও। আবার বানরের কাছে নালিশ। এবার বানর চেঁচিয়ে, চেঁচিয়ে বলতে লাগলো। আমি কি তোমাদের জন্য কম করেছি। তোমরা শুধু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আর অভিযোগ তুলছ? সারাদিন তোমাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করছি। এগাছ ওগাছ দৌঁড় ঝাঁপ করছি। তোমরা কি সব ভুলে গেছো। এক দুটি বাচ্চা না হয় গেছে। তোমাদের কি আর বাচ্চা হবে না?
নিরীহ প্রাণিরা ভাবলো ঠিকই তো! আমাদের জন্যতো কম করেনি। আমাদের বাচ্চাতো আরো হবে। বানর বললো যাও যার যার ঘরে যাও। কাল থেকে প্রয়োজনে তোমাদের জন্য আরো খাবারের পরিমান বৃদ্ধি করে দেব।
এ কথা শুনে নিরীহ প্রাণিরা খুশি হয়ে ঘরে ফিরে গেল। এই হলো বনে বানরের শাসনামল আর নিরীহ প্রাণিদের জীবন ব্যবস্থা।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com