weather ২৮.৭৯ o সে. আদ্রতা ৭২% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বিয়ের সম্মতি না দেয়ায় স্ত্রীকে খুন, নিখোঁজের জিডি করতে গিয়ে ধরা

প্রকাশ : ০৮-০৬-২০২২ ১০:৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দ্বিতীয় বিয়ের পর সম্মতি না থাকায় সংসারে আসছিল না সেই স্ত্রী। এদিকে প্রথম স্ত্রীও সম্মতি না দিয়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়ে হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন। সম্মতি না দেয়ার ক্ষোভে প্রথম স্ত্রীকে কাজ থেকে তুলে এনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুন করে লাশ পুকুরপাড়ে পুতে রাখেন স্বামী। ঘটনার চার দিনের মাথায় থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশের জালে আটকে যান খুনি স্বামী। উদ্ধার করা হয় স্ত্রীর লাশ। খুনের এই নতুন স্টাইলের ঘটনাটি রংপুরের পীরগাছার। এ ঘটনার হত্যা মামলায় স্বামী মানিক এখন ( ৩৫) গ্রেফতার। বিয়ের পর সম্মতি না থাকায় সংসারে আসছিল না সেই স্ত্রী। এদিকে প্রথম স্ত্রীও সম্মতি না দিয়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়ে হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন। সম্মতি না দেয়ার ক্ষোভে প্রথম স্ত্রীকে কাজ থেকে তুলে এনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুন করে লাশ পুকুরপাড়ে পুতে রাখেন স্বামী। ঘটনার চার দিনের মাথায় থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশের জালে আটকে যান খুনি স্বামী। উদ্ধার করা হয় স্ত্রীর লাশ। খুনের এই নতুন স্টাইলের ঘটনাটি রংপুরের পীরগাছার। এ ঘটনার হত্যা মামলায় স্বামী মানিক এখন ( ৩৫) গ্রেফতার। বিয়ের পর সম্মতি না থাকায় সংসারে আসছিল না সেই স্ত্রী। এদিকে প্রথম স্ত্রীও সম্মতি না দিয়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়ে হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন। আসছিল না সেই স্ত্রী। এদিকে প্রথম স্ত্রীও সম্মতি না দিয়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়ে হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন। সম্মতি না দেয়ার ক্ষোভে প্রথম স্ত্রীকে কাজ থেকে তুলে এনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুন করে লাশ পুকুরপাড়ে পুতে রাখেন স্বামী। ঘটনার চার দিনের মাথায় থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশের জালে আটকে যান খুনি স্বামী। উদ্ধার করা হয় স্ত্রীর লাশ। খুনের এই নতুন স্টাইলের ঘটনাটি রংপুরের পীরগাছার। এ ঘটনার হত্যা মামলায় স্বামী মানিক এখন ( ৩৫) গ্রেফতার। রংপুরের পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী জানান, 'শনিবার সকাল ১০টায় শশুড় আসাদকে সাথে নিয়ে পীরগাছা থানায় স্ত্রী নিখোঁজের জিডি করতে গিয়েছিলেন উপজেলার পারুল ইউনিয়নের বিরাহিম কুঠিয়ালপাড়া এলাকার মানিক মিয়া নামের ওই ব্যক্তি। ঠিক সেই সময় এলাকা থেকে খবর আসে তার বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে লাশের গন্ধ এবং পুতে রাখা নারীর হাত। সাথে সাথেই আমরা তাকে আটক করে জেরা শুরু করি।' এসপি জানান, 'পুলিশের জেরার মুখে মানিক তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় তাকে নিয়ে মানিকের বাড়িতে অভিযান চালাই আমরা। তার দেখানো পুকুর পাড়ের গর্ত খুঁড়ে লিলির লাশ উদ্ধার করি। মানিক স্ত্রী হত্যার পুরো ঘটনা আমাদের কাছে খুলে বলেছে।' পুলিশ সুাপর আরো জানান, 'মানিক জানিয়েছে, লিলি এবং মানিকের সংসার ১৩ বছরের। বছর খানেক আগে জমিলা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে মানিক। কিন্তু জমিলাকে বিয়ে করার বিষয়টি মানছিল না প্রথম স্ত্রী লিলি। সম্মতি না থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীও আসছিল না সংসারে। সম্মতির জন্য লিলিকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল মানিক। এক পর্যায়ে লিলি তার ১০ বছরের সন্তান মেহেদীকে নিয়ে বাবার বাড়ি পাশের গ্রামের সেচাকান্দিতে চলে যায়। সেখানে স্থানীয় সৈয়দপুর বাজারের শাপলা হোটেলে বাবুর্চির কাজ নেয়। পাশাপাশি লিলির বিয়ের পর থেকে তার ওপর নির্যাতন ও সম্মতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের আইন ও সালিশ শাখায় লিখিত বিচার দেয়। সেখান থেকে মানিককে বলা হয় বিষয়টি নিষ্পত্তি না করলে এটি নিয়ে নিয়মিত মামলা করা হবে। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয় মানিক। বিষয়টি নিয়ে ভাই তৌহিদুলসহ তাকে খুনের পরিকল্পনা করে।' ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার রাতে মানিক লিলিকে হোটেলে গিয়ে মিমাংসার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর নিজ শোয়ার ঘরে তৌহিদুলসহ মানিক লিলির পায়ের আঙ্গুলে তার দিয়ে পেঁচিয়ে বিদ্যুৎ শক দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ে গর্ত করে পুতে রাখে। যাতে গন্ধ বের না হয় সেজন্য লাশের চারপাশে প্রচুর লবণ রেখে দেয়। পুলিশ সুপার আরো জানান, 'লাশ উত্তোলনের সময় প্রচুর লবণ আমরা সেখানে পেয়েছি। এছাড়াও ঘটনার সময় পেঁচানো বিদ্যুতের তার এবং গর্ত করার জন্য ব্যবহৃত কোদালও আমরা উদ্ধার করেছি।' পীরগাছা থানার ওসি সরেষ চন্দ্র জানান, 'লাশ উদ্ধারের পর সিআইডির সহযোগিতায় সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করে বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিলির পিতা আসাদ বাদি হয়ে তিনজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় স্বামী মানিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকিদের খোঁজা হচ্ছে।' লিলির পিতা আসাদ জানিয়েছেন, 'লিলিকে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই তার ওপর নানা ধরনের নির্যাতন করে আসছিল মানিক। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য চাপ দিতো। শেষ পর্যন্ত মায়ের থেকে পাওয়া জমির অংশ বিক্রি করেও লিলি তাকে টাকা দেয়। এরপরও অত্যাচার কমছিল না। এর মধ্যে স্থানীয় এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে মানিক। বিয়ের পর আমার মেয়ে তার নানার বাড়ি চলে যায়। সেখানে হোটেলে রান্নাবান্নার কাজ নেয়। কিন্তু মানিক হোটেল থেকে বারবার বের করে নিয়ে এসে বিয়ের সম্মতি দেয়ার জন্য কাগজে সই নেয়ার জন্য চাপ দেয়। আমার মেয়ে তা দিচ্ছিল না। বুধবার সকালে আমার মেয়ে হোটেলে কাজ করার জন্য বের হয়ে আর ফেরেনি। আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকি। বৃহস্পতিবার সকালে মানিক আমাকে ফোন করে বলে লিলি কোথায়। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন। এরমধ্যে সে আমার সাথে বারবার যোগাযোগ করে এবং বলে আব্বা চিন্তা করবেন না। মাটির নীচে থাকলেও লিলিকে খুঁজে বের করবো। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে নিয়ে জামাই মানিক পীরগাছা থানায় জিডি করার জন্য যায়। এরমধ্যে এলাকায় কুকুরের আচর থেকে লাশের খবর পেয়ে মেম্বার ও চেয়ারম্যান বিষয়টি থানায় জানালে মানিককে সেখানে আটকে দেয়।' আসাদ আরো বলেন, 'আমার দুই মেয়ে। ওদের মা নেই। মারা গেছে। এখন যেভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করা হলো। আমি সেভাবেই মানিকেরও হত্যা চাই। আমার নাতি মেহেদী এখন কোথায় যাবে। কার কাছে থাকবে।'

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর