weather ৩৪.৯৯ o সে. আদ্রতা ৫৫% , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে রেললাইনের ওপর 'লাল মরিচের গালিচা

প্রকাশ : ৩০-০৫-২০২৩ ২১:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে অসংখ্য লাল গালিচা। না, এটি কোনো জমকালো অনুষ্ঠানে বিছানো গালিচা নয়। এটি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় 'লাল মরিচের গালিচা'। স্থানীয় কৃষকরা জমি থেকে ঝাল মরিচ সংগ্রহ করে শুকাতে দিয়েছেন রেললাইনের ওপর। পাখির চোখে (ড্রোন শটে) দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো পাকা মরিচের 'লাল গালিচা'।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাসহ জেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জের উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ হয়েছে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁচা-পাকা মরিচ। মাঠ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে রোদে শুকাতে ব্যস্ত চাষীরা। তাদের বাড়ির উঠানজুড়ে মরিচের ঝাঁজালো ঘ্রাণ।
নয়নাভিরাম এ দৃশ্য ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া রেলস্টেশন এলাকার। মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করলে বাড়তি দাম পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন ভোরে বস্তায় বস্তায় পাকা মরিচ রেললাইনের ধারে নিয়ে আসেন স্থানীয় চাষিরা। রেললাইনের দুই পাশে ও পাটাতনের মাঝখানে পাটি, মাদুর, পলিথিন বিছিয়ে মরিচ শুকাতে দেন। পরে শুকানো হলে প্রক্রিয়াজাত শেষে এসব মরিচ চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ঠাকুরগাঁওয়ে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে পাকা ও শুকনো মরিচ। তাই স্থানীয় হাট বাজারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ন্যায্য মূল্যে মরিচ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। আর ভালো পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে।
এদিকে ক্ষেতে মরিচ সংগ্রহ কাজে শিশু-কিশোর পাশাপাশি পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও যোগ দেন। প্রতিটি মরিচের ঝুড়ি ভর্তি হলে ২৫ থেকে ৩০ টাকা হিসেবে দিনে আয় করছেন কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় মোট দুই হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত এসব মরিচের মধ্যে দেশী প্রজাতিসহ রয়েছে বাঁশ গাইয়া, জিরা, মল্লিকা, বিন্দু, হটমাস্টারসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের মরিচ, যা থেকে প্রায় ১৭৩ কোটি টাকার শুকনা মরিচ বিক্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলার রুহিয়ায় রেললাইনের পাশে কথা হয় চাষি জমিরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, কাঁচা অবস্থায় মরিচের দাম কম থাকে। এ কারণে শুকিয়ে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক নিয়ে এখানে মরিচ কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা। সে সময় স্টেশন এলাকা কর্মচঞ্চল থাকে।
কথা হয় লিয়াকত আলী নামের আরেক কৃষকের সাথে। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে বিন্দু ও বাঁশগাড়া জাতের মরিচ আবাদ করেছেন। সেচ, সার, বীজ ও পরিচর্যা পর্যন্ত তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ওই জমিতে মরিচ উৎপাদন হয়েছে কমপক্ষে ১০ মণ। এবার প্রতি মণ মরিচ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া যাবে। এ থেকে খরচ বাদে মুনাফা হবে প্রায় লাখ টাকা।
সদরের ভাওলারহাট এলাকার কৃষক শাহীন আলম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় মরিচের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। এই রেল গেইট এলাকার প্রায় ৭০ ভাগ কৃষকই মরিচ চাষের সাথে যুক্ত রয়েছেন। পৌষ মাসে মরিচের চারা রোপণ করার পর থেকে মরিচ উৎপাদন পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। বিন্দু, সেকা, মাশকারা, মল্লিকা সহ বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ হয় এই এলাকায়।
তিনি বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এতে এক লাখ টাকা খরচ হলেও লাভ থাকবে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।
মরিচ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, এ জেলার মরিচের আকার, বর্ণ ও স্বাদের কারণে চাহিদা বেশি। এ স্টেশন এলাকা থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয়। এলাকার বেশিরভাগ কৃষকই মরিচ চাষের সাথে জড়িত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর ও তার আগেও বৃষ্টির কারণে কৃষকরার তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। তবে এবার বৃষ্টি না থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় বিগত সময়ের লোকসান তারা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আমরা মনে করছি।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com