চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আনিসুর
প্রকাশ : ১৬-০৫-২০২৩ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুতাল্লিব সম্রাট, বালিয়াডাঙ্গী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি সাহিত্য নিয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার পর কর্ম জোগাড় করে সংসারের হাল ধরার কথা ছিল আনিসুর রহমানের। দিনমজুর বাবাকে শেষ বয়সে একটু অবসরে শান্তিতে রাখার। কিন্তু ১ মাস হলো জানতে পেরেছেন তাঁর শরীরে বাসা বেধেছে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। এখন তাঁর জন্যই প্রতিমাসে চিকিৎসা খরচ প্রয়োজন ৩০-৩৫ হাজার টাকা। যা দিনমজুর বাবা ও তাঁর পরিবারের পক্ষে বহন সম্ভব হয়।
এখন আনিসুরকে বাঁচাতে সহযোগিতা চাইছে তাঁর পরিবার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আনিসুর রহমানের বাড়ী ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের পারদেশী পাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হাকিমের ছেলে।
জানা গেছে, আনিসুর ২০১৫ সালে পারদেশী পাড়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং ২০১৭ সালে লাহিড়ি ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম পাশের পর ২০১৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোন আরবি সাহিত্য বিভাগে। করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে বাড়ীতে ফিরলে বিয়ে দেয় তাঁর পরিবার। ছয়মাস আগে ১টি কন্যা সন্তান হয়েছে তাঁর।
আনিসুর রহমান জানান, ৯ মাস আগে রক্তদানের পর তার শরীরে ব্যথা অনুভব করেন। এরপরে স্থানীয় চিকিৎসকের নিকট দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়ে আরোগ্য লাভ না করায় দারস্থ হোন ঠাকুরগাঁও জেলার অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট। সেখানে পরীক্ষা করে জানতে পারেন তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এরপরে তাঁর বাবা ঢাকার একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাড়ীতে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। মাসে দুবার রিপোর্ট করতে যেতে হচ্ছে ঢাকায়। অভাবের কারণে মাঝে মাঝে ঔষধ কেনার টাকা জুটছে না তাঁর।
চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী আনিসুরকে টানা ৬ বছর চিকিৎসা করাতে হবে। এর বাইরে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা। প্রতিমাসে আনিসুরের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হবে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। ছয় বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক টাকা। যা তাঁর বাবার ভিটেমাটি বিক্রি করে দিলেও সম্ভব নয়।
আনিসুরের মা রহিমা বেগম জানান, গেল মাসে একমাত্র সম্বল দুটি গরু বিক্রি করে দিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালাচ্ছেন। স্বামী পরের বাড়ীতে কাজ করে যা রোজগার করে তাতে সংসারে ভালোভাবে চলে না। কিভাবে ছেলের চিকিৎসা করাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার রয়েছেন তাঁরা।
আনিসুরের স্ত্রী রিমা খাতুন বলেন, বেকার অবস্থায় স্বামী বিয়ে করেছে। স্বপ্ন ছিল অনার্স পাসের পর কিছু একটা করে সংসারটা চালিয়ে নিবো। এখন স্বামী অসুস্থ্য। কিভাবে কি করবো তানিয়ে কঠিন খারাপ সময় যাচ্ছে তাঁর। ছয়মাসের বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা চান তিনি।
আনিসুরের বাবা আব্দুল হাকিম বলেন, 'পরের বাড়ীত কাম করে বেটা দিরাক পড়ালেখা করাছিনু। এরা বেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ত পড়েছে, এরা রাজশাহীত। বড় বেটারাক বেহাও দিনু। মনে করিন্নু পাস করেহেনে কুনোএকখান করে সংসারটা দেখিবে। এলা উমাকে দেখতে মোর জীবন যাছে। উপরওয়ালা মোক বড় পরীক্ষাত ফিলাইজে। কেংকরে ছুয়াডাক ভালো করিম, এই চিন্তাত দিন যাছে মোর।'
জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরিফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আমাদের দপ্তরে আবেদন করলে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতা পাবে। আমি চেষ্টা করবো দ্রুত কাজটি করে দেওয়ার।
আনিসুরকে সহযোগিতা করতে পারেন ( ইসলামী ব্যাংক, ঠাকুরগাঁও শাখা, 20501946700613408 হিসাব নম্বরে অথবা আনিসুরের নিজস্ব বিকাশ (01779187594) নম্বরে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com