weather ৩২.৯৯ o সে. আদ্রতা ৫৮% , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘি আর তেলের সমান দাম অকাল মৃত্যু আশংকা

প্রকাশ : ২৪-০৭-২০২০ ০৩:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

"ঘি আর তেলের সমান দাম অকাল মৃত্যু আশংকা"

"মো.হারুন অর রশিদ"
এক রাজ্যে দুই যুবক ছিল। দু'জনের গলায় গলায় পিরিত। যেন স্বর্গে হোক আর নরকেই হোক এক সংগে থাকতে চাই দুই বন্ধু। দু'জনের মধ্যে একজন মূর্খ কিন্তু তার ছিল অঢেল সম্পদ আর সম্পত্তি। অন্যজন শিক্ষিত, বুদ্ধিমান কিন্ত অভাবী। সম্পদশালী বন্ধুটি অভাবী বন্ধুটিকে প্রস্তাব দিল বন্ধু চল দুরে অন্যকোন রাজ্যে ভ্রমনে যাই। অভাবী বন্ধুটি বল্লো আমার কাছে ভ্রমনে যাওয়ার মতো টাকা নাই।

এ কথা শুনে বড়লোক বন্ধু বল্লো, তোমার টাকা লাগবে না। তোমার বুদ্ধি আর আমার টাকা। শিক্ষিত বন্ধুটি মাথা নাড়ে সম্মতি দিল। যেই কথা সেই কাজ। একজনের টাকা আর একজনের বুদ্ধি এ নিয়ে দুরে অন্য রাজ্যে চলে গেল দু'জন। ওই রাজ্যের বাজারে গিয়ে দেখলো সেখানে ঘি'য়ের যতোদাম তেলেরও তাই। কচুর যতো দাম মাংসরও একই। দুধের যতো দাম পানিরও তাই। এসব দেখে বড়লোক বন্ধুটি খুব খুশি। সে বল্ল বন্ধু এবার খুব মজা হবে মজা করে খাব আর ঘুমাবো। কারণ এখানে তেলের দাম যতো ঘি'য়ের দামও ততো। তেল খাব না শুধু ঘি খাব। মাংস আর কচুর দাম সমান তাই কচু খাব না শুধু মাংশ খাব। শুধু মজা আর মজা!

শিক্ষিত বন্ধুটি বল্লো, না দোস্ত এখানে থাকব না, কারণ যেখানে তেল আর ঘি'য়ের দাম সমান। মাংশ আর কচুর দাম সমান, দুধ আর পানির দাম সমান। সে যায়গা বসবাস অনুপযোগি। আমি এখানে থাকব না। বড়লোক বন্ধুটি ক্ষেপে একাকার। সে বল্লো তুমি গেলে যাও আমি এখানেই থাকব আর মজা করে খাব। বেচারা অভাবী মানুষ। সেখান থেকে ফিরে যাবে তার কাছেতো এমন কোন টাকাও নেই। বাধ্য হয়েই তার সংগে থাকতে হলো। ওই রাজ্যে বেশ কিছুদিন খুব মজা করে খাইলো। দু'জনের শরীর খুব নাদুস নুদুস হয়ে গেল।

একদিন ভিন রাজ্যের নাদুস নুদুস শরীরের লোক এ রাজ্যে আছে এমন খবর রাজার কানে গেল। রাজা সেনাপতি পাঠিয়ে তাদেরকে রাজ দরবারে নিয়ে আসলেন। তাদের দুজনকে দেখে রাজা বল্লো, তোমাদের শরীর দেখে মনে হচ্ছে তোমরা আমার রাজ্যের অনেক খাবার খেয়েছো। এই অপরাধে তোমাদের দু'জনকে কাল ফাঁসি দেওয়া হবে। এরা দুজনে হাও মাও করে কাঁদতে লাগলো। শিক্ষিত বন্ধুটি কাঁদতে কাঁদতে বল্লো তোমাকে বলেছিলাম না, এখানে থাকবো না। যেখানে তেল-ঘি, মাংস-কচু, দুধ-পানির দাম সমান সেখানে ভাল মন্দের কোন বিচার নেই। দেখলেতো রাজা আমাদের কোন কথায় শুনলো না। কারণ এখানে ভাল মন্দের কোন বিচার নাই। সেনাপতি তাদের দু'জনকে টেনে হিচঁড়ে অন্ধকার সেলে নিয়ে গেল।

মুর্খ বন্ধুটি বল্লো, দোস্ত তোমারতো অনেক বুদ্ধি, তুমি এবার আমাকে বাঁচাও। আর কোন দিন তোমার অবাধ্য হবো না। শিক্ষিত বন্ধুটি বল্লো ঠিক আছে রাতে পরামর্শ হবে।
রাতে মুর্খ বন্ধুটির চোখে ঘুম নাই। না থাকারই কথা। বার বার বলছে তুমি কি কোন বুদ্ধি বের করতে পারলে?

শিক্ষিত বন্ধুটি বল্লো কাল সকালে যখন ফাঁসির মঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে তখন আমি যা করবো তুমিও তাই করবে। আমি যা বলবো তুমিও তাই বলবে। মুর্খ বন্ধুটি বল্লো ঠিক আছে। তাই হবে। সকালে তাদেরকে ফাঁসির মঞ্চে হাজির করা হলো। রাজা, উজির নাজির, সেনাপতিসহ সবাই উপস্থিত। মুর্খ বন্ধুটি একটু বেশী নাদুস নুদুস তাই রাজা তাকে আগে ফাঁসি মঞ্চে নিয়ে যেতে বল্লো। তাঁকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যেতে না যেতেই শিক্ষিত বন্ধুটি চিৎকার করে বল্লো হুজুর, হুজুর আমার একটা আর্জি আছে। রাজা সেনাপতিকে বল্লো দাঁড়াও, কি আর্জি তার একটু শুনি। বলো---!

হুজুর, আমাকে আগে ফাঁসি দিন। মুর্খ বন্ধুটিও জোড়ে জোড়ে বল্লো না হুজুর না, আমাকে আগে ফাঁসি দেন। শিক্ষিত বন্ধু বলছে আমাকে আগে দেন, মুর্খ বন্ধু বলছে আমাকে আগে দেন। এভাবে চললো অনেকক্ষুন। রাজা বিরক্ত হয়ে বল্লো দাঁড়াও। আমি বহু মানুষকে ফাঁসি দিয়েছি কিন্ত কেউ এভাবে কোন সময় বলেনি। কিন্তু তোমাদের এতে কি রহস্য খুলে বলো।

শিক্ষিত বন্ধুটি বল্লো হুজুর এটি আপনি জানতে চাইবেন না। আপনি আমাকে আগে ফাঁসি দিন। মুর্খ বন্ধুটিরও একই কথা। রাজার আরো জানার কৌতুহল বাড়লো। তোমাদেরকে বলতেই হবে। শেষে কাচু মাচু হয়ে শিক্ষিত বন্ধুটি বল্লো, হুজুর আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি, আপনার এ রাজ্যে আজ যার প্রথমে ফাঁসি হবে সে আপনার মতো সাতটি রাজ্যের মালিক হবে। মুর্খ বন্ধুটিরও একই কথা। রাজা ভাবলো, এক রাজ্যেই আমার এত্তো এত্তো ক্ষমতা! যার সাত রাজ্যে না জানি তার কি পরিমান ক্ষমতা হবে?!!! রাজা আর বেশী না ভেবে বল্লো, সেনাপতি ওদের ছেড়ে দাও। ফাঁসির মঞ্চে আমাকে নিয়ে গিয়ে আমার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।

মন্ত্রি চিৎকার দিয়ে বল্লো, হুজুর এ রকম সিদ্ধান্ত নিবেন না। কি আর করা। কার কথা কে শুনে। রাজা বল্লো- না, এটি আমার আদেশ। আমার আদেশের বাইরে একচুলও নড়চড় হবে না। এখনই ফাঁসি কার্যকর করা হোক। আদেশ মোতাবেক ফাঁসি কার্যকর করা হলো। দুই বন্ধু ছাড়া পেলো। এখন মুর্খ বন্ধুটি খুব খুশি। সে বল্লো এখন এখানে থাকতে আর কোন সমস্যা নাই। শিক্ষিত বন্ধুটি আবারও তাকে বল্লো এখানে থাকা ঠিক নয়। যেখানে তেল ঘি'য়ে দাম সমান, মাংস কচুর দাম সমান সেখানে বিচারও নাই। কাজেই এখানে থাকা ঠিক নয়। যেখানে তেল ঘি'য়ের সমান দাম সেখানে অকাল মৃত্যুর আশংকা।

আরো পড়ুন: শেষ সম্মান।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর