গত এক বছরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে -একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. আবুল কাশেম
প্রকাশ : ২৩-০৮-২০২০ ১০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
আব্দুস সবুর (বালিয়াডাঙ্গী): ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছরে ব্যপক উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মো. আবুল কাশেম।
ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, আমি হাসপাতালের দায়িত্বে আসার পর থেকে আমার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে যৌথ মিটিং করে সর্ব প্রথম আমাদের হাসপাতালে কি কি সমস্যা রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং এগুলোর মধ্যে কোন কোন সমস্যা গুলো আমাদের জন্য বেশি জরুরী সেগুলোর দিকে নজর দেই। এর মধ্যে কিছু সমস্যা আমরা নিজ অর্থায়নে পূরণ করার চেষ্টা করেছি আবার কিছু সমস্যা সরকারের সহযোগীতায় সমাধান করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন আমি সহ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ছিলাম মাত্র ০৩ জন। কিন্তু ৩৯ তম বিসিএস-এর মাধ্যমে আমরা ১২ জন নতুন চিকিৎসক পেয়েছি। বর্তমানে এই হাসপাতালে সবমিলিয়ে আমরা এখন ১৫ জন চিকিৎসক রয়েছি। পাশাপাশি সরকার প্রচুর নার্স নিয়োগ দেওয়ার কারণে বর্তমানে হাসপাতালে ২০ নার্স রয়েছে। এছাড়াও ০৩ জন নতুন পরিচ্ছন্নকর্মী পেয়েছি। এখন আমাদের মুল যে সমস্যা ছিল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সেটা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের যে একটা অভিযোগ ছিল মানুষ হাসপাতালে আসলে ডাক্তার পেতো না, নার্সের স্বল্পতার কারণে নার্স পেতো না। যেহেতু সরকার প্রচুর ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দিয়েছে সে কারণে আমরা মানুষকে এখন মানসম্মত চিকিৎসা দিতে চেষ্টা করছি। আগে বর্হি বিভাগে আমাদের চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে উপ-সহকারী (স্যাকমো) দ্বারা আমরা চিকিৎসা সেবা দিতাম। কিন্তু এখন যেহেতু নতুন ডাক্তার এসেছে আমরা এখন বর্হি বিভাগ এবং জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
সেকমোদের কাজ কি এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেকমোদের কাজ হচ্ছে মেডিকেল ডাক্তারদের নির্দেশে কাজ করা এবং তাদের সহযোগিতা করা, রেজিষ্টার সংরক্ষণ করা ও জরুরি বিভাগের সাহায্যে করা।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন সারা বিশ্বে করোনা মহামারিতে বৈশ্বিক অবস্থায় এই করোনা ভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে আমরা সাধারণ রোগী ও করোনা রোগীদের সার্বিক চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছি। আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষকে সর্বচ্চ মানের সেবাটা যেন আমরা হাসপাতালে দিতে পারি।
এছাড়াও হাসপাতালে কিছু অবকাঠামোর উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, আমাদের হাসপাতালের প্রবেশ পথের রাস্তাটা বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকতো সেটা আমরা আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সংস্কার করেছি। হাসপাতালের পুরাতন ভবন সংস্কার করেছি। টয়লেটসহ দরজা, জানালার ইত্যাদির যে সমস্যা ছিলো সেগুলো সংস্কার করেছি। পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলো সুসজ্জিত করেছি। এছাড়াও আবাসিক ভবনগুলো সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বাচ্চাদের শিশু বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমি নিজ অর্থায়নে ০১ জন পরিচ্ছন্নকর্মী রেখেছি। ওই পরিচ্ছন্নকর্মীর পারিশ্রমিক আমি নিজে বহন করি। আগে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আসলে নোংরা ও দূর্গন্ধের যে অভিযোগ করত সেটা দুর করার চেষ্টা করছি। সেই সাথে আমি জনগনকে সচেতন হওয়ার আহ্বান করছি।
আমি আমাদের এম’পি মহোদয়ের দিক নির্দেশনা, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের সকলের সহযোগীতায় এসব উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের নুন্যতম যে পরীক্ষাগুলো বাইরে করা হতো সেগুলো এখন আমরা হাসপাতালে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে করার চেষ্টা করছি। যেমন রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফি এমনকি আমাদের নতুন এক্সে-রে মেশিন চলে এসেছে আশা করি আগামী মাস থেকে আমরা হাসপাতালে এক্সে-রে করাতে পারবো।
পরিশেষে আমি যেন বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালকে একটি সুন্দর পরিবেশ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দিতে পারি সেজন্য সকলের সহযাগীতা কামনা করছি।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com