weather ২৮.৭৯ o সে. আদ্রতা ৭২% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করবেন না'

প্রকাশ : ২১-০৩-২০২৩ ২২:১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: 'মুক্তিযোদ্ধার বহর দেখে চেতন মুক্তিযোদ্ধারা দুঃখিত, ব্যথিত, লজ্জিত ও অপমানিত। মৃত্যুর পর আর অপমানিত হইতে চাই না। আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করবেন না।' লিখিতভাবে ক্ষোভ জানিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন দবিরুল ইসলাম নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তার অভিযোগ, যুদ্ধ না করেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাচ্ছেন। তাই তিনি মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিতে চান না।
গত ১৯ মার্চ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবর এমন আবেদন  করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার মৃত সফিজ উদ্দীনের ছেলে।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট নং-৮৯৭, এফ এফ নম্বর-২০৭৭, লাল মুক্তিবার্তা নং-০৩১০০৩০০৬০ এবং মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-০১৯৪০০০১৮০৪।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম বলেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করতে আমরা জীবন বাজি রেখেছিলাম। দেশ স্বাধীনের পর আমাদের অবদানের জন্য স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান দেয়া হচ্ছে এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হচ্ছে। এটা আমাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ না করেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সম্মানের সঙ্গে সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হচ্ছে। যুদ্ধ করে আমরা যে সম্মানটা পাচ্ছি, যুদ্ধ না করেও তারা সেই সম্মানে সম্মানিত। তাই আমি মনে করি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্য এটা অপমান। তাই আমি জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছি আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করা হয়।'
তার অভিযোগ, যুদ্ধ না করেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাচ্ছেন। তাই তিনি মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিতে চান না।
লিখিত আবেদনের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করি। কেন তিনি এমনটা চাচ্ছেন সরাসরি আরও জানার চেষ্টা করা হবে।
এর আগেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামকে। কয়েক বছর আগে নিজেই বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল কোটা বাতিল করে মেধার মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের দাবি তোলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বেশ আলোচনাতেও আসেন তিনি।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com